Donate to Links


Click on Links masthead to clear previous query from search box

GLW Radio on 3CR



Recent comments



Syndicate

Syndicate content

প্যাট্রিক বন্ড কানকুন সম্মেলন : সবাই হারলো, জিতলো কেবল পুঁজিবাদ?

Protest in Cancun.

 (English at http://links.org.au/node/2041)

ভাষান্তর : হাসান মেহেদী

এবারও নির্ধারিত সময়ের একদিন পর (২০১০ খ্রিস্টাব্দ) ১১ ডিসেম্বর শেষ হলো ষোড়শ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন বা কপ-১৬। এখানে অংশ নেয়া অধিকাংশ প্রতিনিধি ও মূলধারার সাংবাদিকরা কানকুনের উপর মলম লাগিয়ে একে এক ধরনের ‘বিজয়’ বা ‘অগ্রযাত্রার পদক্ষেপ’ নামে চিত্রিত করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান আলোচক টড স্টার্ন বড়াই করে বললেন “প্রথমেই বলা দরকার, গত বছর এই আইডিয়াগুলোর কাঠামো তৈরি হয় কিন্তু অনুমোদন হয় নি; এ বছর সেটার বিশদ বিবরণ দেয়া হয়েছে এবং অনুমোদন করা হয়েছে”।

গত বছর ১৮ ডিসেম্বর পর্দার আড়ালে থাকা পাঁচটি দেশের চাপে কোপেনহেগেন সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। এরপর নেতাদের হতাশার কারণে পৃথিবীব্যাপী যে সার্বজনীন নিন্দা শুরু হয়েছিলো, সেখানে সামান্য একটু আশাবাদের আলো দেখা যাচ্ছে। সবাই আগামী এক বছর পর ডারবানে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে রাষ্ট্রনায়ক ও মন্ত্রীদের আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন' বাস্তবতা হলো, এই আশাবাদের জন্য সেই বাজারভিত্তিক জলবায়ু-কৌশলের উপরই ভরসা করতে হচ্ছে যা সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ।

এখন নেতাদের মনোভাব ইতিবাচকতার দিকে ঘুরে যাবার কারণ হলো, আন্তর্জাতিকভাবে সর্বসম্মত হওয়া গেছে (বলিভিয়ার বিরোধিতা সত্ত্বেও) এবং জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলার জন্য পুঁজিবাদি কায়দায় কিছু পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। কানকুনের সমর্থনকারীরা যুক্তি দেখান যে, শেষ মুহূর্তের সমঝোতায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার জন্য নির্গমন কমানোর কথা স্বীকার করা হয়েছে। এছাড়া ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় আলোচকরা আরও দাবি করেন যে, নির্গমন সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা, বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে একটা ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’, বন সম্পর্কিত বিনিয়োগের সূচনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে একটা আইনি বাধ্যবাধকতাপূর্ণ প্রোটোকল গ্রহণের কৌশল নির্ধারণ করাও সম্ভব হয়েছে। একজন প্রাক্তন কার্বন-ব্যবসায়ী ও বর্তমানে জাতিসঙ্ঘ জলবায়ু বিষয়ক কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ানা ফিগারেসের মতে, “কানকুনে একটি কাজের কাজ হয়েছে। জাতিগুলো দেখিয়েছে যে, তারা সার্বজনীন সমস্যার ক্ষেত্রে একমত হবার জন্য একই ছাদের নিচে একসঙ্গে বসে কাজ করতে পারে”।

স্থিতাবস্থা বহাল না কি পেছনের দিকে যাত্রা?

কিন্তু বর্তমান উষ্ণায়ন রোধ করার জন্য কি দরকার ছিলো এবং সত্যিকার অর্থে কানকুনে কি দেয়া হলো তা একটু শান্ত হয়ে ভাবা দরকার। যে কোনো গ্রহণযোগ্য বিচারেই কানকুনের রাজকীয় হোটেল মুন প্যালেসের আলোচকরা ব্যর্থ হয়েছেন। বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের বক্তব্য অনুসারে, “শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বাস করা মানুষদের পক্ষে ধরিত্রী মাকে ধ্বংস করার নীতি বহাল রাখা খুব সহজ। যারা বলিভিয়া আর পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পানিসঙ্কট, খাদ্যঘাটতি, ক্ষুধা আর দুর্দশার মধ্যে আছে, আমাদের নিজেদেরকে তাদের অবস্থায় গিয়ে চিন্তা করা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার কাকে বলে সে সম্পর্কে কানকুনের এই মানুষগুলোর কোনো ধারণাই নেই”।

জাতিসঙ্ঘে বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত পাবলো সোলোনের মতে, কানকুন “অগ্রযাত্রার পদক্ষেপ নয়, বরং একধাপ পেছনে যাত্রা”, কেননা ২০২০ সালের মধ্যে নির্গমনের মাত্রা ১৫ শতাংশ কমানোর ঐচ্ছিক প্রতিশ্রুতি কোনো ক্রমেই পৃথিবীর তাপমাত্রাকে “মানবজাতি ও এই গ্রহটি টিকে থাকার পর্যায়ে” রাখতে পারবে না।

সিভিল সমাজের আন্দোলনকারীরা আরও বেশি মাত্রায় ক্ষোভ দেখিয়েছেন। মালয়েশিয়াভিত্তিক থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের মিনা রামান তাদের মধ্যে একজন। তিনি বলেন, “এখানে প্রশমনের (কার্বন নির্গমন কমানোর) প্রকৃতিগত পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। কিয়োটো প্রোটোকলে পদ্ধতিগত ও বিজ্ঞানভিত্তিক একটি সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। এখন তা পরিবর্তিত হয়ে ঐচ্ছিক এবং প্রতিজ্ঞা-পর্যালোচনাভিত্তিক হয়েছে”।

এল সালভেদরের ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ-এর একজন নেতা রিকার্ডো নাভেরো দুঃখপ্রকাশ করলেন, “মুন হোটেলের আলোচনায় পৃথিবীতে যা ঘটছে তার কোনো প্রতিফলন নেই। এখানকার সিদ্ধান্তগুলো কানকুনহেগেন হয়ে গেছে এবং আমরা প্রত্যাখান করতে বাধ্য হচ্ছি”।

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ একমত যে, কোপেনহেগেন ও কানকুনের একেবারেই মামুলি প্রতিশ্রুতিগুলো যদি বাস্তবায়িত হয় (বড় একটা যদি আছে!) তাহলেও এ শতাব্দির শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা ঝড়ো গতিতে ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। আর যদি বাস্তবায়িত না হয় তাহলে তা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা আছে। বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি একমত, এমনকি যদি ২ ডিগ্রিও তাপমাত্রা বাড়ে তাহলে ছোট দ্বীপগুলো ডুবে যাবে, আন্দেজ ও হিমালয়ের হিমবাহগুলো গলে যাবে, বাংলাদেশের বহু উপকূলীয় এলাকা ও অন্যান্য অনেক বন্দরনগরী তলিয়ে যাবে, আফ্রিকার অনেক অঞ্চল মরুভূমি হয়ে যাবে - কিছু কিছু এলাকা বন্যা প্লাবিত হবে; এর ফলে প্রতি দশজনের নয়জন কৃষকই বাঁচতে পারবে না।

জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে রাজনীতিক ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বারংবার যথেষ্ঠ পরিমাণে সতর্ক করেছেন। কিন' বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁরা হয় ‘জলবায়ু প্রত্যাখ্যানবাদ’-এর সারিতে দাঁড়িয়েছেন, না হয় জাতির সঙ্গে জাতির আলোচনা বাধাগ্রস্ত ক’রে ‘সর্বোচ্চ নির্গমনের অধিকার’ পাবার ব্যর্থ নিয়তির দিকে দৌঁড়াচ্ছেন। ফলে, ঘায়ে মলম লাগানোর মতো একটি সমঝোতা হলেও, গত দুই সপ্তাহে কানকুনের আলোচক ও জনমানুষের মধ্যে পার্থক্য মোটেই কমে নি, বরং বেড়ে গেছে।

ঘুষের উইকিলিকস্‌

বিস্তারিতভাবে বললে, ছোট দেশগুলোর প্রতিনিধিরা “কানকুন আলোচনায় ধনী ও অগ্রসর উন্নয়নশীল দেশগুলোর খেলায় অনুমোদন দেয়ার জন্য ভয় দেখানো, ধাক্কাধাক্কি, ছোট অঙ্কের ঘুষ দিয়ে প্রলুব্ধ করা, নাম ধরে ডাকা এবং বাধ্য করার শিকার হয়েছেন”, বললেন দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশগত গণতন্ত্র সংলাপ-এর সুমাইয়া দত্ত। তিনি বলেন, “আফ্রিকার অনেক ঋণগ্রস্ত ছোট দেশ অর্থ চাচ্ছে যা তারা পেতে পারে ‘বন উজাড় ও নির্বনায়ন রোধ করে কার্বন নির্গমন কমানো (আরইডিডি) কর্মসূচির আওতায়, এবং এভাবে তারা আরইডিডি ব্রিগেডের পুঁজির অধীনে চলে গেছে। এটা সর্বোচ্চ ধনী দেশ এবং গরিবদের মধ্যে যারা ধনী দেশ - এই দুই পক্ষের জন্য ‘উভয়ের জয়’ এর মতো একটি অবস্থা। দূরে সরিয়ে না রাখতে পারলে সত্যিকার গরিবরা সব সময়ই ধনীদের জন্য একটি জ্বালাতন”।

২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে তৃতীয় বিশ্বের যেসব দেশ উত্তরের দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা ক’রে তাদের ঠাটবাট গুড়িয়ে দিয়েছিলো তাদেরকে ঘুষ দেয়ার কথা এখন সবাই জানে। উইকিলকস্‌কে ধন্যবাদ যে তারা ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তারবার্তা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। উদাহরণ, ১১ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু কর্মসূচির কমিশনার কনি হেডগার্ড ওয়াশিংটনকে জানান যে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জোটকে “চাহিদামতো টাকা দিলে ‘তারা আমাদের সবথেকে ভালো সমর্থনকারী’ হতে পারে”।

কয়েকমাস আগেও যারা কোপেনহেগেন সন্ধিতে উল্লেখিত ‘নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ’-এর বিরুদ্ধে প্রচারাভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের নেতারা এখন পুরো উল্টো কথা বলছেন। কেননা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত জনাথন পারসিং তাদেরকে ৫ কোটি ডলারের সাহায্য-প্যাকেজ এনে দিয়েছেন। ২৩ ফেব্রুয়ারির তারবার্তায় দেখা যাচ্ছে, পারসিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আব্দুল গফুর মোহাম্মেদের সঙ্গে দেখা করেছেন। গফুর তাঁকে বলেছিলেন, যদি মালদ্বীপকে ‘নগদ সহায়তা’ দেয়া হয় তাহলে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশও বুঝতে পারবে, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ওয়াশিংটনের ইচ্ছাপূরণে ‘সম্মতি দিলে সুবিধা পাওয়া যাবে’।

যা হোক, প্রতিশ্রুত টাকার পরিমাণ নিয়েও সন্দেহ আছে। তারবার্তায় হেডগার্ড এও গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, ২০১০-১২ মেয়াদে শুরু হওয়া উত্তর-দক্ষিণ সহায়তার একটি অংশ, উদাহরণস্বরূপ লন্ডন ও টোকিও থেকে দেয়া টাকা সহায়তা নয়, ঋণের গ্যারান্টি হিশেবে দেয়া যেতে পারে। পারসিং এর বিরোধিতা করেন নি, কেননা তিনি মনে করেন, “বাজেটের টানাটানির মধ্যে বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়েই প্রকৃত অর্থায়ন ও রাজনৈতিক চাহিদার ভেতরে দাতাদের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে”।

এমনকি আর্থিক প্রতিশ্রুতিগুলো ভাঙার দিকে ওয়াশিংটনের ঝোঁক দেখেও আফ্রিকার নেতৃত্বদানকারী সরকারপ্রধান, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেলেস জেনাউই-এর মত পরিবর্তনের বিষয়টিও উইকিলিকস্‌-এ উন্মোচিত হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারির এক তারবার্তায় দেখা যায়, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের-এর চাপে মত পরিবর্তনের মূল্য হিশেবে জেনাউই উত্তরের দেশগুলো থেকে আরও তহবিল দাবি করেছেন।

আরইডিডি’র গোজামিল

এইসব শক্তি-সম্পর্কের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে শুধুমাত্র বলিভিয়ার নেতৃবৃন্দ ও সিভিল সমাজের আন্দোলনগুলোয় সারা পৃথিবীর আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হচ্ছিলো। ৭ ডিসেম্বর সকালে যখন সরকার-প্রধানগণ কানকুনে উড়ে এসেছেন তখন কৃষকদের সংগঠন লা-ভিয়া-ক্যাম্পেসিনার সারা মেক্সিকো ঘুরে আসা কাফেলা বিমানবন্দর সড়কের কাছে পৌছেছিলো। তাদের সঙ্গে ছিলো আদিবাসী পরিবেশবাদি নেটওয়ার্কের গরিব মানুষের প্রতিনিধিরা। কাফেলাটিকে যুদ্ধসাজে থাকা বাহিনী দিয়ে প্রতিরোধ করা হয়। ৮ ডিসেম্বর আইইএন-এর মূখপাত্র টম গোল্ডটুথকে জাতিসঙ্ঘ ফোরামে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয় নি কেননা অহিংস উপায়ে প্রতিরোধের কৌশল নির্ধারণে তার খ্যাতি রয়েছে।

গোল্ডটুথের মতে কানকুন সম্মেলনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হলো “কোপেনহেগেন সন্ধিবিরোধী দেশগুলোর দিকে পর্দার আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনবরত আক্রমণাত্মক ভূমিকা, বাহুবল দেখানো এবং ঘুষ দেয়া”। আরইডিডি কর্মসূচির ঘোরবিরোধী গোল্ডটুথ বলেন, “এ ধরনের কৌশলগুলো ইতিমধ্যেই অসার বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং আদিবাসী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত রয়েছে। সত্যিকার অর্থে এই চুক্তি কার্বন বাজার, কার্বন খেসারতি, অপরীক্ষিত প্রযুক্তি ও ভূমি দখলের মতো কাজগুলোকে উৎসাহিত করবে যার মাধ্যমে আর যাই হোক, প্রকৃত নির্গমন কমবে না। বাজার ব্যবস'ার উপর ভিত্তি করেই চুক্তির সবকিছু ‘উল্লেখ’ করা হয়েছে। অপরদিকে তা সাধারণ মানুষ ও সমাজ, নারী ও যুবকদের অধিকার রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

পর্যবেক্ষণকারী এনজিও আরইডিডি-মনিটর’র প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস ল্যাং যুক্তি তুলে ধরেন যে, পদ্ধতিগত সংস্কারের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে কেননা, প্রথমত. “প্রকৃতপক্ষে যেগুলো বন সেগুলো রক্ষার কোনো বিধান কানকুনে রাখা হয় নি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করা দরকার। প্রাকৃতিক বন রক্ষা এবং ‘উজাড় হয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধার’ কানকুন চুক্তির আরইডিডি কর্মসূচির ‘মূল উদ্দেশ্য’ নয়। বাণিজ্যিক বনায়ন বাদ দিয়ে প্রকৃত বনের কোনো বোধগম্য সংজ্ঞা আমরা এখন পর্যন্ত পাই নি। অবশ্য, স'ায়িত্বশীল বন ব্যবস'াপনার বিষয়টি এই চুক্তিতে আছে যার অর্থ হলো ব্যাপক হারে গাছ কাটা যাবে (পরে বাণিজ্যিক বনায়নের জন্য)”।

দ্বিতীয়ত, ল্যাং বললেন, “কানকুন চুক্তির আরইডিডি কর্মসূচির মাধ্যমে আদিবাসী ও বনজীবী জনগোষ্ঠীগুলোর অধিকার রক্ষা করা হয় নি। তাদেরকে একটি সংযুক্তির মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা দেয়া’র কাজগুলোয় ‘উৎসাহ ও সহায়তা দেয়া’ উচিৎ। কোনো সরকার এ কথার যেমন ইচ্ছা তেমন অর্থ দাঁড় করাতে পারে”। কানকুন সম্মেলনের আলোচনা চলার মধ্যেই একটি সঙ্কটময় পরিসি'তির উদ্ভব হয়েছিলো কেননা পুঁজির সমর্থনকারী ও বিরোধী, দুই পক্ষের আন্দোলনকারীরাই এ বিষয়ে নিজ নিজ অবস'ান নিয়েছিলো। এরই মধ্যে গ্রীনপিস ও আন্তর্জাতিক বিশ্বায়ন বিষয়ক ফোরাম উভয়েই দ্বিধাগ্রস্ততার সাথে ‘বাজার বহির্ভূত আরইডিডি’ কর্মসূচির পক্ষে ওকালতি করছিলো (যদি সক্রিয় পক্ষগুলো এটা গ্রহণ করে, এই আশায়)। কিন' তারা এবং তাদের মিত্ররা হেরে যায়। ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থের দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবিয় শাখার ভাষ্য অনুসারে, “নতুন চুক্তিতে বনকে নিছক কার্বন শোষক (আধার) হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং নির্গমন-বাণিজ্যের দিকেই গতি পাচ্ছে”।

একইভাবে, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক গ্রীন ফান্ডকে প্রণোদিত করলেন। একটি পার্শ্ব-সম্মেলনে সর্বোচ্চ ব্যক্তি হিশেবে তাঁর ভাষণে তিনি আরইডিডি’র পণ্যায়ন কৌশলের আওতা কৃষির বৃহত্তর ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেন। রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মৈত্রী করে তিনি এগুলোর পাশাপাশি বাঘের মতো মহিমাময় প্রাণী রক্ষার কাজও আরইডিডির আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দিলেন। ৮ ডিসেম্বর আন্দোলনকারীরা জলবায়ু তহবিল থেকে বিশ্বব্যাংককে সরিয়ে দেবার দাবি জানিয়েছিলো। এর একটি কারণ, জোয়েলিকের আমলে জীবাশ্ম জ্বালানিতে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের পরিমাণ ১ শ’ ৬০ কোটি ডলার (১১ হাজার ২ শ’ কোটি টাকা) থেকে বেড়ে ৬ শ’ ৩০ কোটি ডলারে (৪৪ হাজার ১ শ’ কোটি টাকায়) পৌছেছে। প্রতিবাদকারীদের আরেকটি বড়ো যুক্তি ছিলো, বিশ্বব্যাংক প্রশ্নহীন নয়া উদারনীতিক অর্থনৈতিক তত্ত্বের আওতায় রপ্তানিমূখী প্রবৃদ্ধি, অত্যাধিক প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, জ্বালানি বিরাষ্ট্রীয়করণ এবং কার্বন বাজার বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

কোস্টারিকার ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থের প্রতিনিধি গ্রেস গর্সিয়ার মতে, “একমাত্র একটি উন্মাদের দলই ভাবতে পারে যে, বিশ্বব্যাংক জলবায়ু তহবিল গ্রহণ করলে সেটি ভালো হবে। পৃথিবীর সবথেকে জঘন্য প্রকল্পগুলোয় টাকা খরচ করা আর আমাদের জনগণের উপর মৃত্যু পরোয়ানা চাপিয়ে দেয়ার দীর্ঘ ইতিহাস আছে যে প্রতিষ্ঠানটির, শুধুমাত্র কতোগুলো পাগল বা শয়তানই তার উপর এই দায়িত্ব দিতে পারে”।

দুর্ভাগ্যবশত, কিছু আদিবাসী সংগঠন ও তৃতীয় বিশ্বের এনজিও আরইডিডি তহবিলের চক্রে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এবং ‘পরিবেশ-সংরক্ষণ তহবিল’ -এর মতো বাজারভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পদশালী উত্তরের দেশগুলো ‘ভাগ করো এবং বশ করো’ কৌশল দ্বারা আমাদের মধ্যে বিভেদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এখনকার বিপদ খুবই ভয়াবহ কেননা ১৯৯৭ সালে আল গোর ভুল করে (অথবা নিজ স্বার্থে) কিয়োটো প্রোটোকলে পরিচ্ছন্ন উন্নয়ন পদ্ধতি ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, যদি কার্বন বাণিজ্যকে মূল দলিলে রাখা হয় তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিয়োটো প্রোটোকল মেনে নিবে। যুক্তরাষ্ট্র কিয়োটো প্রোটোকল মেনে নেয় নি, কিন' এখন জলবায়ু বিষয়ক আন্দোলনকে বিভক্ত করতে এই মুলোটি ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে গরিব দেশগুলোর সামনে।

উত্তরের দেশগুলোর ব্ল্যাকমেইল করার নানা কৌশলের একটি হলো আরইডিডি। এর মাধ্যমে গাছ লাগানো বা বন সরক্ষণ ও ব্যবস'াপনার জন্য কোনো গরিব দেশকে সামান্য অঙ্কের সাহায্য ধরিয়ে দেয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রকল্প স'ানীয় অধিবাসীদের বাস'চ্যুত হতে বাধ্য করে। উদাহরণস্বরূপ, সিডিএম-এর আওতায় বর্জ্য ফেলে ভূমি ভরাট করার মধ্য দিয়ে মিথেন আহরণের জন্য গৃহীত দানবীয় প্রকল্পগুলো ইতিমধ্যেই স'ানীয়দের সরে যেতে বাধ্য করেছে। আবার ডারবানের মূল সিডিএম প্রকল্পের আওতায় পরিবেশ বর্ণবাদের পরাকাষ্ঠা দেখানো হয়েছে। প্রকল্পের বর্জ্যগুলো সীমানায় না ফেলে বাইসাসার সড়কের পাশে কালোদের বসতির মধ্যে ফেলা হয়েছে যাতে তারা গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। এভাবে নির্গমনের ক্রেডিট কিনে নেয়া উত্তরের বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জলবায়ু সঙ্কটের কোনো সমাধান না করেই তাদের প্রশ্নহীন বাণিজ্য সম্প্রসারিত করে যাচ্ছে।

জলবায়ু ঋণ, কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ

আরইডিডি ও অন্যান্য সিডিএম-এর বিরূপ সমালোচনার মধ্যে ইভো মোরালেসসহ অনেকেই অর্থায়নের বিদ্যমান কাঠামোর বদলে ‘জলবায়ু ঋণ’-এর ধারণাটি আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। তাঁরা কার্বন বাণিজ্যের ক্ষমতা খর্ব করার দাবি করেছেন কেননা এগুলো দুর্নীতি সহায়ক, বিশৃঙ্খল, বায়বীয় এবং অযৌক্তিকভাবে সস্তা। এ কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আরও সাশ্রয়ী পরিবহন খাতে কোনো বিনিয়োগ হবে না।

এ ধরনের বিনিয়োগে প্রতিটন কার্বনের দাম হওয়া উচিৎ কমপক্ষে ৫০ পাউন্ড (৭ হাজার টাকা প্রায়) সেখানে ইউরোপীয় নির্গমন বাণিজ্য কর্মসূচির আওতায় এই দাম ২০০৮ সালে ছিলো প্রতিটন ৩০ পাউন্ড (৪ হাজার ২ শ’ টাকা প্রায়)। গতবছর তা কমে দাঁড়ায় প্রতিটন ১০ পাউন্ডে (১,৪০০ টাকা প্রায়); এখন আবার তা বেড়ে ১৫ পাউন্ড (২,১০০ টাকা প্রায়) হয়েছে। কার্বন সস্তা হলে নির্গমন কমানোর চেয়ে বায়ুদুষণই লাভজনক বিবেচিত হবে।

কানকুনের এক বিকেলে এসব বিষয়ে বিশ্বের বাঘা বাঘা কার্বন ব্যবসায়ীর  সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, কার্বনের বাজার বন্ধ করে দিলেই বরং আরও কার্যকরভাবে, আরও নির্ভরযোগ্য কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এগিয়ে যাওয়া যাবে। এ যুক্তি খণ্ডন করে আন্তর্জাতিক নির্গমন বাণিজ্য সংস'ার প্রধান কর্তা হেনরি ডেরবেন্ট দাবি করলেন যে বাজার-ব্যবস'াই সালফার-ডাই-অক্সাইডের নির্গমন কমিয়ে এসিড বৃষ্টি রোধ করেছে। কিন' ৯০’র দশকের গোড়া থেকে এখন পর্যন্ত ইউরোপে বাজার-ব্যবস'ার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বেশি কার্যকর হিশেবে প্রমাণিত। একইভাবে ১৯৯৬ সালে মনট্রিল প্রোটোকলে সিএফসি নিষিদ্ধ করার পর ওজোন স্তরের ছিদ্র বন্ধে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণই সবথেকে কার্যকর হয়েছে।

এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতা তাদের পরিবেশ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে এবং এর প্রধান প্রশাসক লিসা জ্যাকসন এখনই ১০ হাজারের মতো প্রধান নির্গমন-উৎসকে অতিদ্রুত নির্গমন কমানোর আদেশ দিতে পারেন। এ জন্য পশ্চিম ভার্জিনিয়া যেমন পর্বতশীর্ষের কয়লা আহরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে তেমনি আরও প্রতিরোধ আন্দোলন দরকার। কেননা, ভদ্রমহিলা বলে দিয়েছেন যে, তিনি ২০১৩ সালের আগে নির্গমন কমানোর আদেশ দিতে পারবেন না। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পুননির্বাচনের প্রচারাভিযান শেষ হবার পর তিনি এটি শুরু করবেন। আশার কথা হলো, ওয়াশিংটনে আইইটিএ’র প্রধান কর্মকর্তা ডেভিড হান্টার নিশ্চিত করেছেন যে, এ বছর সিনেটে কার্বন ‘নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্য’ আইন পাশ না হওয়ায় মার্কিন কার্বন বাজার ঝিমিয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অচলাবস'াকে ধন্যবাদ দিতেই হয়!

আশ্চর্য্য হলো, ওয়াশিংটনের বড়ো বড়ো পরিবেশবাদি সংগঠন বলছে যে, ‘এখনই জলবায়ু ন্যায্যতা’ নামে একটি আন্দোলনকে পয়সা না দিয়ে তারা কংগ্রেসে কার্বন বাণিজ্যের পক্ষে ওকালতি করার জন্য বিভিন্ন দাতাদের কাছ থেকে ৩০ কোটি ডলার (২ হাজার ১ শ’ কোটি টাকা প্রায়) এনে দিয়েছে! দ্য স্টোরি অব ক্যাপ-অ্যান্ড-ট্রেড নামে একটি ছবিতে এই ষড়যন্ত্রের প্রকৃত সত্য ও সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। গত বছর ছবিটি সাড়ে ৭ লাখ মানুষ দেখেছে। মানুষ দেখেছে, কিভাবে টাকার অপচয় করে উৎসমূলেই সম্পদশূন্যতা তৈরি করা হচ্ছে।

এই অক্টোবরে (২০১০) সম্পদশালী তিনটি পরবেশবাদি সংগঠন, ৩৫০.অর্‌‌গ্‌, রেইনফরেস্ট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ও গ্রীনপিস যৌথ আহ্বান জানিয়েছে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে আরও প্রত্যক্ষ আন্দোলন দরকার’। অবশ্যই আন্দোলন হচ্ছে। আইইএন, গ্রাসরুটস্‌্‌ গ্লোবাল জাস্টিস এবং মুভমেন্ট জেনারেশন ২৩ অক্টোবর (২০১০) একটি খোলা চিঠিতে দাবি করেছে যে, “তৃণমূল সংগঠন, নেটওয়ার্কভিত্তিক ও আন্দোলনমূখী কৌশল ব্যবহার করে সারাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার জনগোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিককালে জলবায়ু-দুষণকারী শিল্প-কারখানার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ওয়াশিংটনের বড়ো বড়ো পরিবেশবাদি সংগঠনের তুলনায় অতি সামান্য পয়সা খরচ করেই তারা এটা সম্ভব করেছে। তৃণমূল পর্যায়ের এসব আন্দোলনের ফলে নতুন শিল্প-কারখানার বিপুল পরিমাণ নির্গমন থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে”।

জলবায়ু পুজিবাদ না জলবায়ু ন্যায্যতা

সমস্ত বিচারেই, প্রতিরোধ আন্দোলনের এই বিছিন্নতার কারণেই জলবায়ু-পুঁজিবাদি উদ্ভট ধারণা এতো দৃঢ়ভাবে সামনে এগোতে পেরেছে। প্রগতিশীল জোটগুলোর মধ্যে চরম আদর্শগত ও ভৌগলিক বিভেদ মেক্সিকোয় দেখা গেছে। এটা এমন একটা সমস্যা যা  আগামী দিনগুলোতে অবশ্যই দূর করতে হবে। কেননা, এই বিভেদের ফাক দিয়েই বাজারভিত্তিক অভিসন্ধি পূরণ করা হয়। কানকুনের শেষ দমবন্ধ পরিবেশে জলবায়ু পুঁজিবাদের পুনরুত্থানে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা ভীষণ নিরুৎসাহিত হয়েছে।

বস'তই, একটা সঙ্গতিপূর্ণ বিকল্প কতোটা দরকার তা অভিজাত পরিবেশ ব্যবস'াপনায় এ বছরের সীমিত আশাপ্রকাশের ধরন থেকেই দেখা গেছে।

সৌভাগ্যবশত, এ বছর (২০১০) এপ্রিলে ৩৫ হাজার নাগরিক প্রতিনিধিদের পরামর্শের ভিত্তিতে কোচাবামবা গণসমঝোতা গৃহীত হয়েছে। কোচাবামবা সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছে :

-    ২০১৭ সালের মধ্যে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনের হার শতকরা ৫০ ভাগ কমাতে হবে;

-    তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১০ সেলসিয়াস ও ৩০০ পিপিএম-এর মধ্যে রাখতে হবে;

-    ‘জলবায়ু ঋণ’-এর স্বীকৃতি দিতে হবে যার দেনাদার উন্নত দেশগুলো;

-    মানবাধিকার ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সহজাত অধিকারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে;

-    প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি নিশ্চিত করার জন্য ‘ধরিত্রী মাতার অধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা’ গ্রহণ করতে হবে;

-    জলবায়ু ন্যায্যতার জন্য আন্তর্জাতিক আদালত প্রতিষ্ঠা করতে হবে;

-    আরইডিডির মাধ্যমে প্রকৃতির পণ্যায়ন ও কার্বন বাজার বাতিল করতে হবে;

-    উন্নত দেশগুলোর ভোগের ধরন পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা দিতে হবে;

-    জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে (নির্গমন কমানোয়) দরকারি প্রযুক্তির মেধাস্বত্বাধিকার বাতিল করতে হবে; এবং

-    জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোর জিডিপি’র ৬ শতাংশ প্রদান করতে হবে।

গত কয়েক বছর ধরে বিশ্লেষণ করার পর এই দাবিগুলো তৈরি করা হয়েছে। কিন' চ্যালেঞ্জ হলো, পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু ন্যায্যতার আন্দোলন শুধুমাত্র চালিয়ে যাওয়া আর নাটকীয়ভাবে দাবি তুলে ধরা নয়, জীবাশ্ম জ্বালানির নির্গমন ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠের বিরুদ্ধে দরকার অব্যাহত ঝাকুনি দেয়ার মতো তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলন; আলবার্টার আলকাতরা বালু থেকে ইকুয়েডরের আমাজন, সানফ্রান্সিসকোর রিফাইনারি থেকে নাইজার বদ্বীপ, পশ্চিম ভার্জিনিয়ার পর্বতমালা থেকে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার কয়লাখনি পর্যন্ত।

এছাড়া, যদি জলবায়ু-আলোচনায় উত্তরের দেশগুলোর স্বার্থোদ্ধারের উদ্দেশ্যে কানকুনে বাজার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা হয় তাহলে গোল্ডটুথের সতর্কবাণী মনে রাখাটা জরুরি : “আমাদের জনগণের মৃত্যুকে পুঁজি করে শিল্পোন্নত দেশ, দানবীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গোল্ডম্যান শ্যাশের মতো অনৈতিক কোম্পানিগুলো কানকুন চুক্তির মধ্য দিয়ে প্রচুর মুনাফা অর্জন করবে”।

ডারবান ২০১১’র সমাবেশ

একদিকে অকার্যকর পুঁজিবাদি কৌশল এবং অন্যদিকে গণমানুষের স্বার্থ ও পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার পরস্পরবিরোধী সমাবেশ হবে ডারবানে। শেষোক্ত দাবিটি আদায়ের জন্য প্রতিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ২০০১ সালের বিশ্ব বর্ণবাদবিরোধী সম্মেলনের কথা উল্লেখ করা যায় যেখানে ইহুদিবাদ এবং দাসপ্রথা, উপনিবেশবাদ ও  বর্ণবৈষম্যের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে আনায় জাতিসঙ্ঘের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ১৫ হাজার মানুষের বিক্ষোভের মুখে বানচাল হয় পুরো সম্মেলন।

আরইডিডি ও কার্বন-বাজারের বিপক্ষে চাপ অব্যাহত রাখাটা একটা চ্যালেঞ্জ। কিন' এর কোনোটাই শুভ পরিণাম বয়ে আনছে না তা ২০১১ সালের নভেম্বরের মধ্যে নিশ্চয়ই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এখন ফ্রেন্ডস্‌্‌ অব দ্য আর্থের আন্তর্জাতিক সভাপতি ও নাইজার বদ্বীপের কর্মী নিম্মো ব্যাসি যিনি এ বছর রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, তাঁর ভাষায় :

ডারবানের বাইরের চিত্রই দেখাবে সঠিক পথ

যে কাজ বাকি রইলো

সেটাই করা হবে ওখানে

জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা আর

গণআন্দোলনের সমাবেশ

কিছু না কিছুর জন্য আশা তো করতে হবে!

* হাসান মেহেদী, প্রধান নির্বাহী, হিউম্যানিটিওয়াচ

Powered by Drupal - Design by Artinet